হলিউডের সিনেমা নির্মাণের শুরু থেকেই নায়িকারা খোলামেলা হয়ে ক্যামেরায় আসতে অভ্যস্ত। এটা তাদের কাছে বেশ স্বাভাবিক ব্যাপার। কারণ ইউরোপ-আমেরিকার সংস্কৃতিই সেটা। তাই হলিউডে নায়িকাদের বিকিনি পড়াটাও নিয়মিত ব্যাপার। প্রায় প্রতি ছবিতেই খোলামেলা কিংবা বিকিনি হয়ে ক্যামেরাবন্দি হন নায়িকারা। নগ্ন হয়েও মাঝে মধ্যে পর্দায় আসে হলিউড নায়িকারা। কিন্তু বলিউডে পুরোপুরি নগ্ন হয়ে আসার ধারাবাহিকতা না থাকলেও সিনেমার ইতিহাসের শুরু থেকেই অভিনেত্রীরা বিকিনি পড়ে ক্যামেরাবন্দি হন।
তবে সব অভিনেত্রীরা এরকম সাহস দেখাননি কিংবা দেখান না। যাদের শারীরিক ফিটনেস ভালো এবং উদার মনমানসিকতার তারাই বিকিনিতে কমফোর্ট অনুভ করেন। সময়ের বিবর্তনে বিকিনি পড়াটা একটি স্টাইলেও রুপ নিয়েছে বলিউড অভিনেত্রীদের কাছে। যদিও ভারতীয় সংস্কৃতি এই পোশাককে সমর্থন করে না। তাই বিকিনি পড়া নায়িকাদের নিয়ে বিতর্কও রয়েছে অনেক। বিতর্ককে বুড়ো আঙ্গুলি দেখিয়ে বলিউডের শীর্ষ অভিনেত্রীরাও এখন বিকিনিতে আসছেন পর্দায়। নিজের শারীরক সৌন্দর্য প্রদর্শন করতে অনেকে মুখিয়েও থাকেন। অনেকে সিনেমাতে তো বটেই, অনেক বলিউড তারকা এখন বিকিনি পড়ে সমুদ্রের ধারে ঘুরেও বেড়ান। সেই ছবি আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করতেও দ্বিধা করেন না। সব মিলিয়ে বলিউডে নানা রঙের বিকিনি যেন এখন ফ্যাশন হয়ে দাড়িয়েছে।

আর বিকিনি এতটাই জনপ্রিয়তা পেয়েছে স্বাধীনতাপ্রিয় তারকা কিংবা মেয়েদের কাছে যে ৫ই জুলাইকে ঘোষণা করা হয়েছে ‘আন্তর্জাতিক বিকিনি দিবস’ হিসেবে। কারণ ১৯৪৬ সালের ৫ই জুলাই প্রথম বিকিনি আবিস্কার হয়েছিলো। বলিউড নায়িকাদের মধ্যে মধ্যে শর্মিলা ঠাকুর সর্বপ্রথম ১৯৬৬ সালে ‘ফিল্মফেয়ার ম্যাগাজিন’ এ বিকিনি পড়ে ফটোশুট করেন। এর মাধ্যমে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন তিনি। পরের বছর ‘এন ইভিনিং ইন প্যারিস’ ছবিতেও একটি গানে নীল রঙা বিকিনি পড়ে ক্যামেরাবন্দি হন তিনি। তাই বলিউডে বিকিনি চলও শর্মিলা ঠাকুরের মাধ্যমেই শুরু হয় বলে ধারণা করা হয়। এরপর ১৯৭৩ সালে ‘হীরা পান্না’ ছবিতে বিকিনি পড়ে পর্দায় এসে দর্শকদের হৃদয়ে কাঁপন ধরান জিনাত আমান।

এর মাধ্যমে ভারতীয় নায়িকাদের ফ্যাশনেও নতুন মাত্রা যোগ হয়। খোলামেলা পোশাকের প্রচলন শুরু হয়ে যায় তার পর থেকেই। একই বছর ডিম্পল কাপাডিয়ার অভিষেক হয় ‘ববি’ ছবির মধ্যে দিয়ে। এ ছবিতে লাল বিকিনিতে ক্যামেরাবন্দি হন ১৬ বছর বয়সী ডিম্পল। এর পর বিকিনি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠে বলিউডে। এরপর পারভীন ববি, রেখা, রাখি, মুমতাজ, শ্রীদেবীকেও দেখা যায় বিকিনি পরে পর্দায় আসতে। আর নব্বই দশকে প্রায় সব ছবিতেই বিকিনি পড়ে কাজ করায় ‘বিকিনি গার্ল’ উপাধি পেয়ে গিয়েছিলেন উর্মিলা মাতোন্ডকার। একই দশকে বিকিনিতে ক্যামেরাবন্দি হন শিল্পা শেঠি, সোনালি বেন্দ্রে, মনিষা কৈরালা, মমতা কুলকার্নি, কারিশমা কাপুর, আয়েশা জুলকা, জুহি চাওলা মতো জনপ্রিয় অভিনেত্রীরা।

আর সাম্প্রতিক সময়ে বিকিনি বলিউড ছবিতে খুব সাধারণ পোশাক হিসেবে ব্যবহুত হচ্ছে। খোলামেলা হয়ে ও বিকিনি পড়ে শূণ্য দশকের শুরুতে ঝড় তুলেন বিপাশা বসু। বেশ কিছু ছবিতে ধারাবাহিকভাবে বিকিনিে ক্যামেরাবন্দি হন তিনি। সর্বপ্রথম ২০০৩ সালে ’মুঝসে দোস্তি কারোগে’ ছবিতে বিকিনিতে ক্যামেরাবন্দি হন কারিনা কাপুর। একই ছবিতে বিকিনি পড়েন রানি মুখার্জি। কারিনা কাপুর এরপর ফের ‘তাসান’ ছবিতেও বিকিনি পড়েছেন একটি গানে। ‘কুড়ি কুমারি’ নামক একটি গানের মিউজিক ভিডিওতে সুইমিংপুলে বিকিনি পড়ে ক্যামেরাবন্দি হন প্রীতি জিনতা। এরপর কয়েকটি ছবিতেও তাকে বিকিনিতে দেখা যায়। ‘ধূম’ ছবিতে বিকিনি পড়ে তরুণদের বুকে ঝড় তুলেছিলেন এষা দেওল।
অন্যদিকে ‘ব্লু’ নামক ছবিতে সমুদ্রের নীচে সাঁতারের একটি দৃশ্যে বিকিনি পড়ে অভিনয় করেন লারা দত্ত। তিনি অবশ্য বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগীতাতে আগেই বিকিনি পড়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন। দীপিকা পাডুকোনও বেশ কয়েকটি ছবিতেই বিকিনিতে ক্যামেরাবন্দি হয়েছেন। তবে বলিউড নায়িকাদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সবচাইতে বেশিবার বিকিনিতে ক্যামেরাবন্দি হয়েছেন প্রিয়াংকা চোপড়া। তিনি কয়েকটি ছবি ও নিজের গানের মিউজিক ভিডিওতে বিকিনি পড়ে কাজ করেছেন। হলিউডে তার প্রথম ছবি ‘বেওয়াচ’ এও বিকিনি পড়েছেন প্রিয়াংকা। ‘ ‘বেবাকুফিয়া’ ছবিতে সর্বপ্রথম বিকিনিতে ক্যামেরাবন্দি হন সোনম কাপুর।

এদিকে সানি লিওন তার প্রায় সব ছবিতেই বিকিনিতে অভিনয় করেছেন। বিশেষ করে ‘মাস্তিজাদে’ ছবিতে প্রায় পঞ্চাশটি বিকিনি পড়েছেন এ অভিনেত্রী। অন্যদিকে এষা গুপ্তাও বিকিনি পড়তে খুব পছন্দ করেন। বেশ কিছু ছবিতেই তিনি বিকিনিতে ক্যামেরাবন্দি হয়েছেন। এছাড়াও নার্গিস ফকরি বিভিন্ন ছবিতে যেমন বিকিনি পড়েছেন তেমনি ফটোশুট করেছেন বেশ কয়েকটি। চলতি সময়ের অভিনেত্রীদের মধ্যে আরও বিকিনিতে ক্যামেরাবন্দি হয়েছেন আলিয়া ভাট, রিয়া সেন, তাপসী পান্নু, নেহা ধূপিয়াসহ আরও বেশ কিছু নায়িকা।
No comments