প্রেসকার্ড নিউজ, বোলপুর, ২৯ ডিসেম্বর ঃ শুক্রবারই শেষ হয়েছে শান্তিনিকেতনের পৌষ মেলা। আর শনিবার থেকে শুরু হল বোলপুরের শিবপুরে গীতবিতান মেলা। এবারই প্রথম রাজ্য সরকারের উদ্যোগে শুরু হলো এই মেলা। নাম দেওয়া হয়েছে গীতবিতান মেলা। মেলার বিরোধিতা করে মিছিল করেছেন এলাকার জমি হারা মানুষ। বছরের প্রথম সপ্তাহে বোলপুরে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সফরের আগে কিছুটা হলেও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে শিবপুর অঞ্চল।
শান্তিনিকেতনের পৌষ মেলায় দূষণ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছিল। পরে পরিবেশ সংক্রান্ত কারণে আদালত পৌষ মেলার মেয়াদ এবার তিনদিনের বদলে ছ’দিন করার অনুমতি দেয়। আদালত নির্দেশ দেয় ছ’দিন পরে যেন ভাঙা মেলার অজুহাত দিয়ে কোন স্টল না থাকে। জেলাশাসককে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশ মেনে শুক্রবার ভুবনডাঙার মাঠ থেকে স্টল সরিয়ে নিয়ে গিয়ে পাঁচ কিলোমিটার দূরে বোলপুরের শিবপুরের মাঠে মেলায় যোগ দিলেন অধিকাংশ দোকানী। মেলা উদ্বোধন করে রাজ্যের মৎস্যমন্ত্রী এবং এলাকার বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিংহ বলেন, “ওখানে আগামীতে বড় প্রকল্প হবে। হস্তশিল্পের স্থায়ী দোকানও হবে ২০০ টা। এখন বিজ্ঞাপনের যুগ, তাই আমরা একদিকে চাইছি এলাকাটা মানুষের কাছে তুলে ধরতে, অন্যদিকে দোকানীদেরও স্থায়ী দোকানের জায়গা চেনাতে। কেউ কেউ মিছিলের নামে নাটক করছেন, কিন্তু এভাবে উন্নয়ন আটকানো যাবে না। বিরাট প্রকল্পের কাজ চলছে।”
জানা গিয়েছে, শিবপুর মৌজায় শিল্পতালুক গড়ার লক্ষে বাম আমলে জমি অধিগ্রহন করা হয়েছিল। বোলপুরের তৎকালীন সাংসদ সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় ছিলেন তার প্রধান উদ্যোক্তা। ২০০১ থেকে ২০০৩ পর্যন্ত ১১০০ জনের কাছ থেকে প্রায় ৩০০ একর জমি অধিগ্রহন করে বাম সরকার। কিন্তু প্রয়োজনীয় জলের সমস্যা দেখা দেওয়ায় শিল্পের কাজ পিছিয়ে যেতে থাকে। ফলে একাধিক শিল্পগোষ্ঠী প্রকল্পের কাজে উৎসাহী হয়েও পিছিয়ে যায়। বিদেশী একটি বহুজাতিক সংস্থা ২০০৬ সালের শেষে বিরাট প্রকল্প গড়তে এগিয়ে আসে, কিন্তু সরকারের সহযোগিতার সবরকম আশ্বাস থাকলেও তারা পুঁজির যোগান আনতে সময় বাড়িয়ে নেয়। এরপর সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলনে শিবপুরের প্রকল্প ধামাচাপা পড়ে যায়। সরকার বদলের পর তৃণমূল সরকার সেখানে প্রথমে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প গড়ার কথা বললেও পরে ওই এলাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী বোলপুরে সভা করে জানান। বিশ্ববাংলা বিশ্ববিদ্যালয় নামের প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি একটি আবাসন প্রকল্পের ঘোষনাও করেন তিনি।
এতেই ক্ষোভ ছড়িয়েছে জমিদাতা কৃষকদের মধ্যে। তারাই এদিন মেলার বিরুদ্ধে মিছিল করছেন। কিন্তু পুলিশ তাদের মিছিল আটকে দেয়। তারা জানান, বাম আমলে জমি নেওয়ার সময় পরিবার পিছু একজনের চাকরি দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু এখন সরকার শিল্পের নামে নেওয়া জমিতে ফ্ল্যাট বানানোর চেষ্টা করছে। আমাদের জায়গার উপর নির্মাণ হওয়া ওই ফ্ল্যাটে কি আমরা বাসন মাজা, ঘর মোছার কাজ করবো? প্রতিবাদ করে দাবি জানালে নেতারা মারধর করছে, পুলিশ দিয়ে সাজানো মামলায় ফাঁসিয়ে দিচ্ছে। ভয়ে অনেকে গ্রামছাড়া হয়ে আছে। এ অবস্থায় মেলা আমরা মানব না। নকশাল নেতা শৈলেন মিশ্র বলেন, “শিল্পের জমিতে মেলাখেলা আমরা মানব না। শিল্পের জমিতে শিল্প করতে হবে। আবাসন, বিশ্ববাংলা কৃষকরা মানছে না। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বীরভূমের জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা বসু শনিবার এই বিতর্ক প্রসঙ্গে বলেন, “ওটা হিডকোর (পশ্চিমবঙ্গ আবাসন পরিকাঠামো উন্নয়ন সংস্থা) প্রোগ্রাম, ওঁরাই এ বিষয়ে বলতে পারবেন।”

No comments