প্রেসকার্ড,রামপুরহাট, ২২ ডিসেম্বর ঃ “এখানকার সরকার তো আমাদের ফোন ট্যাপ করে। সেই একই কাজ কেন্দ্র করলে আপত্তি কোথায়? তবে সাধারণ মানুষের উপর এর কোন প্রভাব পরবে না”। কেন্দ্রের জারি করা ফরমান তথ্যে নজরদারি প্রসঙ্গে এমনই মন্তব্য করলেন বিজেপির রাজ্য রাজ্য সভাপতি দিলিপ ঘোষ।
হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের রায়ের পর শনিবার দুপুরে তারাপীঠ থেকে রথ বের করার প্রস্তুতি শুরু করে বিজেপি। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সভাপতি অমিত শা’র সভারও প্রস্তুতি শুরু হয়। কিন্তু শুক্রবার দুপুরে সেই রায়ের উপর স্থগিতাদেশ দিতেই মুষড়ে পড়েন বিজেপি কর্মী সমর্থকেরা। তাদের মনোবল চাঙ্গা করতেই এদিন রামপুরহাটে দিলিপ ঘোষের সভা করে মুখ্য রক্ষা করল বিজেপি। সভায় দিলিপ ঘোষ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দলের রাজ্য সহ সভাপতি বিশ্বপ্রিয় চট্টোপাধ্যায়, জেলা অবজারভার রাজীব ভৌমিক, জেলা সভাপতি রামকৃষ্ণ রায়। সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তৃণমূলের দুর্নীতি এবং পুলিশের দুমুখো নীতির সমালোচনায় সরব হন তিনি। শুরুতেই অনুব্রতর নাম না করে বলেন, “এখানে একটা মোটা লোক আছে। রাস্তায় আসতে আসতে দেখলাম মোটা গোঁফ নিয়ে রাস্তার ধারে ছবি ঝুলিয়ে জোড় হাত করে আমাদের স্বাগত জানাচ্ছে”। এরপরেই বলেন, “এজেলা মোটা লকের জন্য পপুলার জেলা। রাজ্যের সব থেকে সন্ত্রাস কবলিত এলাকা বীরভূম। এখানে বিজেপিকে মারতে মারতে এখন নিজেদের মধ্যেই মারামারি করছে। আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। এখানে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বালি, কয়লা, পাথর পাচার হচ্ছে। ওভারলোড পাথর চলে যাচ্ছে। এসবের মধ্যে হিস্যা রয়েছে তৃণমূল নেতারা। যে তৃণমূল নেতারা এক সময় চা চেয়ে খেত, একটা বিড়িকে দুবার টানত তারা এখন দামি সিগারেটের ধোঁয়া আমাদের দিকে ছাড়ছে। দামি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত গাড়ি থেকে নেমে আমাদের চা খাওয়াচ্ছে। তৃণমূলের ছোট থেকে বড় সব নেতারা ফুলেফেঁপে উঠছে। তবে এর বিচার একদিন হবে। যারা ছোটখাটো নেতারা তারা জেলার জেলে থাকবে। মাঝারি মাপের নেতারা আলিপুর জেলে থাকবেন। আর কাউকে কাউকে উড়িষ্যার ভুবনেশ্বরে পাঠিয়ে দেওয়া হবে সুমুদ্রের হাওয়া খাওয়ার জন্য”। বিজেপির কর্মী সমর্থকদের উপর তৃণমূলের আক্রমণের নিয়ে বলতে গিয়ে দিলিপবাবু পাল্টা মারের হুমকি দেন। তিনি বলেন, “পঞ্চায়েত নির্বাচনে সর্বত্র আমাদের মারধর করা হয়েছে। তবে কিছু কিছু জায়গায় আমরা প্রতিরোধ গড়ে মনোনয়ন জমা করেছি। সেসব জায়গায় আমরা জয়ী হয়েছি। ওদের অত্যাচারে ২১ সদস্যকে আমাদের রাজ্যের বাইরে রাখতে হয়েছিল। কারণ তাদের তৃণমূলে ঢোকার জন্য চাপ দিচ্ছিল শাসক দল। তবে আমরাও মহম্মদ বাজারে যা দিয়েছি তাতে তৃণমূল নেতাদের পিঠে এখনো দাগ দগদগে হয়ে রয়েছে। তবে সরকারের অগণতান্ত্রিক মনোভাবের ফলে এখনো বহু জায়গায় পঞ্চায়েত গঠন করা সম্ভব হয়নি” তবে সাধারণ মানুষ, দলীয় কর্মী সমর্থকদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, “পঞ্চায়েতে ভোট দিতে পারেননি বলে লোকসভা ভোট দিতে পারবে না, তা হবে না। পঞ্চায়েতে দিদির পুলিশ ছিল। আর লোকসভা নির্বাচনে দাদার পুলিশ থাকবে। অর্থাৎ কেন্দ্রীয়বাহিনী দিয়ে ভোট হবে। সবাই নিজের ভোট নিজে দিতে পারবেন”। পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমাদের সভার কোন অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাই দেখুন পুলিশ মুখ ঘুরিয়ে রয়েছে। এই পুলিশ আমাদের কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে। তাদের জামিন করতে কোটি কোটি টাকা আমাদের খরচ হয়ে যাচ্ছে। আমরা সেই সমস্ত পুলিশ অফিসারদের তালিকা তৈরি করে রাখছি। ক্ষমতায় এলে আমাদের খরচ হওয়া টাকা ওই সমস্ত পুলিশ অফিসারদের কাছ থেকে আদায় করব। সেই অফিসার দার্জিলিংয়ে থাকুন কিংবা সুন্দরবনে। তাদের সম্পত্তির হিসাব আমরা নেব”। সংখ্যালঘুদের নিয়ে বলতে গিয়ে দিলিপবাবু বলেন, “প্রথমে কংগ্রেস, ৩৪ বছরে বামফ্রন্ট এখন তৃণমূল সংখ্যালঘুদের সন্ত্রাসবাদী তৈরি করেছে। তাদের সমাজে শিক্ষাদীক্ষায় পিছিয়ে। ফলে অনেকেই ভিক্ষা করে দিন গুজরান করছেন। মাত্র দেড় শতাংশ মানুষ চাকরিজীবী। অথচ এই সরকার সংখ্যালঘুদের উন্নয়নের নামে তাদের তোষণ করছে”। এরপরেই সাংবাদিক সম্মেলনে কেন্দ্রের তথ্যে নজরদারি প্রসঙ্গে বলেন, “এখানে সরকার আমাদের ফোন ট্যাপ করে। এটা ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ নয়? একবার বলা হয়নি সাধারণ লোককে ধরবে। যার উপর সন্দেহ হবে বা সন্দেহজনক কাজ হবে তাদের উপর নজরদারি করতেই পারে। এই অধিকার পুলিশের আছে। আর যে বলে আমরা নজরদারি করার কথা বলছি সেই আইন ২০০৯ সালে কংগ্রেস করে দিয়ে গিয়েছে”।

No comments