সোনারপুরঃ সম্প্রতি জনপ্রিয় অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ দাবী করেছেন এই দেশে তার সন্তান সুরক্ষিত নয়। জনপ্রিয় অভিনেতার এই বক্ত্যবের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগণার সোনারপুরের গোবিন্দপুরে একটি বৈদিক স্কুলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নাসিরুদ্দিন শাহকে কার্যত দেশদ্রোহী বললেন যোগগুরু রামদেব। এই অভিনেতা দেশের সম্মানহানি করেছেন, দেশের মানুষকে অপমান করছেন বলেও দাবী করেন যোগগুরু। এছাড়া ও এদিন বিজেপির রথযাত্রা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ রথযাত্রা নিয়ে তো যুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছে। এই বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। এ বিষয়ে আমি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকতে চাই। এ যাত্রা কোথায় গিয়ে থামবে তা জানি না। তবে এটা নিয়ে রাজনৈতিক সংঘর্ষ শুরু হয়ে গিয়েছে”। এসবের পাশাপাশি এদিনের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারকে বৈদিক স্কুলের জন্য বরাদ্দ ও স্কুলে যোগ শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার আবেদন জানান বাবা রামদেব।
শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগণার সোনারপুরের গোবিন্দপুরে একটি বেদ স্কুলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আসেন যোগগুরু রামদেব। শ্রী গৌরাঙ্গ বেদ বিদ্যালয় নামে এই স্কুলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জাভেদকরের আসার কথা থাকলেও তিনি বিশেষ কারণে আসতে পারেননি। তবে বেদ সম্পর্কে একটি ভিডিও বার্তায় তিনি এই স্কুলের সুফলের কথা জানান। এদিনের অনুষ্ঠানে রামদেব জি ছাড়াও ছিলেন স্বামী গোবিন্দদেব গিরি মহারাজ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভারতবর্ষের এই প্রাচীন শিক্ষা ব্যবস্থার গুনাগুন ব্যাখা করেন বাবা রামদেব। আর ভারতবর্ষকে রক্ষা করতে গেলে এই বেদ শিক্ষার অগ্রগতি প্রয়োজন বলে ও দাবী করেন তিনি। পাশাপাশি বৈদিক স্কুলের জন্য রাজ্য ও কেন্দ্রকে অনুদান দেওয়া প্রয়োজন ও সব স্কুলে যোগ শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার আবেদন করেন তিনি। অনুষ্ঠান শেষে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের মুখে যোগগুরু রামদেব অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ সম্পর্কে বলেন, “ভারতবাসীর প্রেম ভালবাসাতেই অভিনেতা ও নেতা তৈরি হয়। আমি ভারতে কোনরকম ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা দেখিনি। তবে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা দেখেছি। ভারতের উপর ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার অভিযোগ লাগিয়ে ভারতের গৌরবকে নষ্ট করা হয়েছে। এরজন্যই সারা বিশ্ব আমাদের উপর হাসে। বিশ্বের সব দেশেই গণ্ডগোল অশান্তি আছে। তবে তারা এ নিয়ে তারা নিজের দেশকে দায়ী করে না। নিজের দেশের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা, হিংসা ও অসুরক্ষার অভিযোগ তোলা দেশকে অপমান করার সমান। কার্যত এটা দেশদ্রোহিতা”।

No comments