প্রেসকার্ড,পুরুলিয়া: অভাবী চাষিদের ফড়েদের হাত থেকে রক্ষা পেতে এবার গ্রামে গ্রামে শিবির করে ধান কিনবে পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন। শুক্রবার থেকে জেলায় ১৫০ শিবিরের মধ্য দিয়ে সরকারী নির্ধারিত মূল্যে ধান কেনা শুরু করবে প্রশাসন। বুধবার, পুরুলিয়া জেলায় একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান জেলা শাসক অলকেশ প্রসাদ রায়। মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতোর পৌরহিত্যে ওই বৈঠকে জেলা সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়, জেলাশাসক, মহকুমাশাসক, বিডিও ছাড়াও বেনফেড, জেলার চাল মিলের মালিকরাও উপস্থিত ছিলেন। কুইণ্ট্যাল প্রতি ১৭৫০ টাকা এই দরে ইচ্ছুক সব কৃষক যাতে পায় সেই লক্ষ্যে রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা পরিষ্কারভাবে উপস্থিত সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হয় এদিন।
গত বারের চেয়ে ১০ হাজার মেট্রিক টন বাড়িয়ে এবার ধান কেনার লক্ষ্য মাত্রা রয়েছে ১ লক্ষ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। জেলায় ইতিমধ্যে ১২ টি চাল কল রয়েছে। ইতিমধ্যে ওই লক্ষ্য মাত্রা পূরণ হবে কি না তা নিয়ে প্রশাসন এবং মিল মালিকরা সংশয়ে রয়েছেন। গতবারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১৯ মেট্রিক টন কম ধনা কিনতে সক্ষম হয়েছিল মিলগুলি। এর উপর ফড়েদের রুখতে এক সপ্তাহ আগে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ইতিমধ্যে ১৫ জন অসাধু ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে কৃষকদের থেকে সরকারী নির্ধারিত মূল্যে ধান কেনার অভিযোগ ছিল। পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে আচমকা হানা দিয়ে তাদের বমাল ধরেও ফেলে প্রশাসন। এই প্রসঙ্গে জেলাশাসক বলেন, ‘আমরা কোনও ব্যবসায়ীকে বাধা দিচ্ছি না তবে, সরকারী নির্ধারিত দর কৃষকরা যাতে পান সেটাই লক্ষ্য রয়েছে প্রশাসনের। কৃষকদের সমস্যা ও অসহয়তার কথা মাথায় রেখেই রাজ্য সরকার এই নির্দেশ দিয়েছে।’ একই সঙ্গে জেলাশাসক জানান, ‘কোনও কাগজ ছাড়াও কৃষক ৪৫ কুইণ্ট্যাল পর্যন্ত ধান আমরা নিয়ে নেব। প্রকৃত চাষী বা জমির প্রমাণ পত্র নিয়ে এলে ওই পরিমানের চেয়ে বেশি ধান কেনা হবে। এছাড়া অতিরিক্ত শিবিরগুলি থেকে ২৫ কুইণ্ট্যাল পর্যন্ত ধান আমরা নেব এটা আজ সর্বসম্মতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’ জেলাশাসক বলেন, ‘কৃষকদের গ্রামে গিয়ে এবার তিন দিনের মধ্যে ধানের টাকা এবং কুড়ি টাকা উত্সাহ ভাতা পেয়ে যাবেন। সামনে মকর পরবের কথা মাথায় রেখে এটা বিশেষ করে জোর দেওয়া হয়েছে।’ জেলা খানিকটা আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি যদি মধ্যস্থ কারবারিদের উত্সাহ দেন তাহলে এটা খুবই দুর্ভ্যাগ্যজনক।’

No comments