কাশি একটি সাধারণ রোগ। জন্মের পর থেকে যেকোন সময় যে কেউ এ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। কাশি উঠলে শরীরের পেট, কোমর, পিঠের অসংখ্য পেশিকে কাজ করতে হয়। তাছাড়া কাশি বেশিদিন থাকলে জটিল অবস্থা হতে পারে। তবে কাশি একটি রোগ হিসাবে এর মন্দ দিকের সাথে কিছু ভালো দিকও রয়েছে।
সাধারণত ঠান্ডা লেগে গলা খুশ খুশ করা কাশি হওয়ার প্রাথমিক ধাপ। এছাড়া নিঃশ্বাসে ধোঁয়া ঢুকে জীবাণু ছাড়ালে বা হঠাৎ করে কিছু গিলে ফেললেও কাশি হতে পারে। গলায় বাতাসের গতি আটকের ফলেও অনেকে কেশে থাকেন। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে, কাশির বেগ ঘণ্টায় ১০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।
তবে কাশি শুধু কষ্টই দেয় না, এর কিছু ভালো দিকও রয়েছে। যেমন কাশির ফলে শ্বাসনালী ও ফুসফুস পরিষ্কার হয়ে থাকে। এমনকি কাশি হলে তার জীবাণু শ্বাসনালীতেই থেকে যায়, তাই তা সহজে শরীরের অন্য কোথাও ছড়াতে পারে না।
তবে শুকনো কাশি ভালো নয়, কারণ তা শ্বাসনালী পরিষ্কার করতে পারে না। কাশি বেশি শুকনো হলে তা শ্বাসনালীর উদ্দীপনার কারণে ক্ষতি করতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বেশি কাশি উঠলে মুখের সামনে হালকা করে হাত বা টিস্যু পেপার ধরে মুখটা খানিকটা ফুলিয়ে একটু সামনের দিক করে বসে কাশলে, কষ্ট কম হবে।
কাশির চিকিৎসা নির্ভর করে কাশির ধরণের ওপর। তবে কাশি অল্প হলে কাশির লজেন্স চুষে খেতে পারেন। দু’সপ্তাহের পরও যদি কাশি ভালো না হয়, তাহলে কিন্তু ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।
যদি শুধু ঠান্ডা লাগার কারণে কাশি হয় তাহলে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করলেই অনেক সময় তা সেরে যায়। ঘরের তাপমাত্রা আর্দ্র হলেও কাশিতে কিছুটা উপকার হয়। গরম পানিতে লবন মিশিয়ে গরগর করলেও অনেকটা কাজে দেয়। তাছাড়া কাশির কারণে রাতের ঘুমের সমস্যা হলে সাধারণ কাশির সিরাপই যথেষ্ট।
তবে দুই বছরের কম বয়সি শিশু কিংবা গর্ভবতী মায়েদের কাশির ওষুধ না খাওয়াই উচিত। আর একান্তই প্রয়োজন হলে ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতিত নয়।
জার্মান নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ ডা. ভিচমান ঠান্ডাজনিত কাশি সম্পর্কে বলেন, ‘ঠান্ডা লাগার সঙ্গে যখন কাশি হয়, তখন কাশতে গিয়ে কাশি গিলে ফেলবেন না। বরং যতটা সম্ভব বের করতে হবে। কারণ এর মাধ্যমে জীবাণু যেমন বেরিয়ে যাবে, তেমনি তাড়াতাড়ি সুস্থ হওয়া সম্ভাবনাও বাড়বে।’
সাধারণ কাশিতে সমস্যা নেই। কিন্তু ঘনঘন কাশির সমস্যা হতে পারে। তরল কাশি জমে যাওয়ার কারণে ঘনঘন এমন কাশি হয়। সবচাইতে কঠিন ব্যাপার হল, তরল কাশি জমে হৃদযন্ত্রকে আক্রান্ত করতে পারে। বিশেষ করে তরল কাশির রং যদি গোলাপি হয়, তাহলে অবশ্যই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। খুব দ্রুত বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাতে হবে।
যাদের কাশি হয়েছে, তাদের কাছ থেকে খানিকটা দূরে থাকাই ভালো। কারণ তাদের কাশির মাধ্যমে ছড়িয়ে জীবাণু দ্বারা আপনিও আক্রান্ত হতে পারেন।
এক্ষেত্রে কাশিতে আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তির সাথে হ্যান্ডশেক, তাকে জড়িয়ে ধরা কিংবা তাদের ব্যবহার করা তোয়ালে বা টিস্যু পেপার ব্যবহার না করাই উচিত।
from Daily Bangla http://bit.ly/2GLaZtQ
from DNAবাংলা http://bit.ly/2GBgjyG

No comments