উকুন একবার কারও মাথায় এলে সহজে তা দূর করা যায় না। এমনকি বাড়ি থেকেও দূর করা যায় না। কারণ, উকুন এক মাথা থেকে অন্য মাথায় যায় নিমেষে।
জানবেন উকুন কারও মাথায় আসে না। আসে বাড়িতে। একজনের মাথায় চেপে ঢোকে এক একটি বাড়িতে। এর পরে একজন একজন করে সবার মাথায় বাসা বাঁধে। এবারে তার যাত্রা শুরু হয় একটি বাড়ি থেকে অন্য বাড়ির দিকে। পাড়া থেকে পাড়া বদল হয়।
তসলিমা নাসরিন একটি কবিতায় উকুন-সহ সব পোকামাকড়কে পুরুষ বলেছিলেন। বাকিদের ক্ষেত্রে ঠিক কি না জানা নেই, তবে উকুনকে পুরুষ বলাই যায়। কারণ, সাধরণত মেয়েদেরই মাথা খায় উকুন।
অনেকের ধারণা উকুন শুধু মাত্র অপরিষ্কার চুলে হয়। এটা সম্পূর্ণই ভুল ধারণা। উকুন পরিষ্কার, অপরিষ্কার, লম্বা, ছোট যে কোনও চুলেই হতে পারে। উকুনের বেঁচে থাকার জন্য শুধু দরকার হালকা গরম পরিবেশ আর এমন একটা স্থান যেখান থেকে তারা খুব সহজেই রক্ত শুষে নিতে পারবে। তাই মানুষের খুলি হচ্ছে উকুনের বেঁচে থাকার সবচেয়ে ভাল জায়গা।
উকুন কীভাবে ছড়ায়:
উকুন সাধারণত শিশুদের মাধ্যমে বেশি ছড়ায়। এক শিশুর জামা কাপড়, চুল থেকে আরেক শিশুর মাথায়, কাপড়ে উকুনের ডিম ছড়াতে পারে। যেসব শিশু স্কুলে পড়ে তাদের ক্ষেত্রে এরকম বেশি হয়। উকুন আছে এমন কেউ যদি কোথাও মাথা লাগিয়ে বসে তখন তার মাথা থেকে উকুনের ডিম সেখানে লেগে যেতে পারে। তার পরে ওই এক-ই স্থানে অন্য কেউ মাথা রাখলে তার মাথায় উকুন ছড়িয়ে পড়তে পারে। একজনের মাথার সঙ্গে আর একজনের মাথা লেগে থাকলে সেক্ষেত্রে উকুন ছড়ায় দ্রুত। চিরুনি, তোয়ালেও বড় মাধ্যম। আর তাই সন্তানের মাথায় উকুন মানেই মায়ের মাথায় আসবেই।
এবার দেখে নেওয়া যাক উকুন ছড়ানোর অঙ্ক:
ধরা যাক, একটি ছোট্ট মেয়ের মাথায় উকুন এল। এবার স্কুলে তার দু’পাশে বসা দুই বন্ধুর মাথায় গেল। সেই দু’জনের থেকে আরও এক বা দু’জনের মাথায়। এরা সকলেই বাড়ি গিয়ে নিজের মায়ের মাথায় চালান করে দিল। মায়েরা দিল, পিসিদের মাথায়। পিসিরা বান্ধবীদের মাথায়। এরা কেউই অপরিষ্কার নয়, তবুও। একেই বলে জিওমেট্রিক প্রোগ্রেশন। বাংলায় গুনোত্তর প্রগতি।
কেউ একজন সব উকুন মেরে ফেললেও নিস্তার পাবে না। কারণ, একই সময়ে সবার মাথার উকুন তাড়ানো সম্ভবই নয়।
from Daily Bangla http://bit.ly/2VytGcu
from DNAবাংলা http://bit.ly/2XS1FKe

No comments