২০১৮-এর বলিউড যেমন বিগ বাজেটকে দেখেছে, তেমনই দেখেছে কম বাজেটের ছবির বক্স অফিস কামাল। এর বাইরে নান্দনিক দিক থেকেও বলিউড ছিল সচেতন। বড় বাজেটের জাঁকজমকের পাশাপাশি লড়ে গিয়েছে অভিনয়, স্ক্রিপ্ট আর পরিচালনাকে পুঁজি করে এগোনো বেশ কিছু তথাকথিত ‘অফবিট’ ছবি। বক্স অফিসের রেটিংয়ের বাইরে গিয়ে যদি বছরটাকে দেখা যায়, তবে এক বিচিত্র মানচিত্র হাতে আসতে পারে।

• টুম্বাড়— নতুন পরিচালক। ছবিও আনকোরা। রাহি অনিল ব্রাভে, আনন্দ গাঁধী ও আদেশ প্রসাদ পরিচালিত এই ছবিতে সে অর্থে তারকাদের ছোঁয়া নেই। অসামান্য ক্যামেরা, চিত্রনাট্য ও আবহ সঙ্গীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়েছে অভিনয়। মিথোলজিক্যাল হরর ঘরানার এমন ছবি বলিউডে এর আগে দেখা যায়নি। ছবি দর্শকের সামনে উন্মোচিত হয় স্তরে স্তরে। ধীরে ধীরে দরজা খোলে এমন এক জগতের, যার জন্য কোনও প্রস্তুতিই দর্শকের ছিল না। ভারতীয় সিনেমাকে এক দমে অনেকটা এগিয়ে নিয়ে গেল ‘টুম্বাড়’।
• অন্ধাধুন— বলিউড অনেক দিনই মাথা গলিয়েছে নতুন ঘরানার থ্রিলারে। এই ছবি তার নবতম সংযোজন। এক অন্ধ পিয়ানো বাদকের জীবন ওলট-পালট করে দেয় এমন এক অপরাধ, যার প্রকৃত সাক্ষী সে। অথচ অন্ধের সাক্ষ্য কেই বা মানবে। শিহরণ তাড়া করে বেড়ায় ১৩৮ মিনিট। শেষে যে চমক অপেক্ষা করে, তাকে চিনতে দর্শককে খানিক থমকাতে হয়। শ্রীরাম রাঘবনের পরিচালনায় এর আগে ‘এক হাসিনা থি’ (২০০৯)বা ‘বদলাপুর’ (২০১৫) দেখে মুগ্ধ হয়েছে দর্শক। এবারে সেই মুগ্ধতাকেও ছাপিয়ে গেল তব্বু, আয়ুষ্মান খুরানা ও রাধিকা আপটে অভিনীত এই রুদ্ধশ্বাস ছবি।
• স্ত্রী— পরিচালক অমর কৌশিকের পরিচালনায় এটিই প্রথম পূর্ণ দৈর্ঘ্যের ছবি। মুক্তির আগেই পরিচালক জানিয়েছিলেন, বলিউডে কমেডি-হরর ছবির অভাব রয়েছে। সন্দেহ নেই সেই অভাব পূর্ণ করেছে এই ছবি। রাজকুমার রাও, শ্রদ্ধা কপূর অভিনীত এই ছবির মূলে রয়েছে ‘নালে বা’ নামে এক প্রেতিনীর আরবান লেজেন্ড। ছবি আবর্তিত হয়েছে এক ছোট শহরের প্রেক্ষাপটে। হরর আর কমিক টাইমিং এক আশ্চর্য মিশ্রণে উপস্থিত এখানে। সন্দেহ নেই, এক নতুন স্বাদ এনে দিল এই ছবি।
• রাজি— স্পাই থ্রিলারও যে কতটা মরমি হতে পারে, সেই প্রমাণ রেখেছেন পরিচালক মেঘনা গুলজার। আলিয়া ভট্ট, ভিকি কৌশল অভিনীত এই ছবির মূলে রয়েছে এক নারীর আশ্চর্য যাত্রা। পেশায় গুপ্তচর এই নারীকে এক শত্রুরাষ্ট্রে গিয়ে থাকতে হয় বিবাহ-সূত্রে। বলাই বাহুল্য, এই ‘বিবাহ’-ও তার পেশারই সুবাদে। তার ব্যক্তিগত সময় আর রাজনীতিক বেগবান সময়ের টানাপোড়েনে বোনা হতে থাকে এই ছবি। একদিকে দমবন্ধ করা থ্রিলার আর অন্য দিকে এক নারীর আত্মশ্রয়ের দলিল হয়ে থাকল ‘রাজি’।
• মুক্কাবাজ— স্পোর্টস বায়োপিক বলা যায় কি এই ছবিকে? অনুরাগ কাশ্যপ আসলে খেলাধুলোর জগতের এক অন্ধকারকেই তুলে ধরতে চেয়েছেন এই ছবিতে। সে দিক থেকে দেখলে এমন ছবির স্বাদও বলিউড পায়নি এর আগে। রাজনীতি, বক্সিং ও সেই সঙ্গে এক ‘আউটকাস্ট’ মানুষের একলা জীবনের চড়াই-উৎরাইয়ে এসে মেশে ডার্ক হিউমার। বিনীতকুমার সিংহ, জোয়া হুসেইন, জিমি শেরগিলের অনবদ্য অভিনয় কোনও স্বপ্ন দেখায়নি এই ছবিতে। কিন্তু অনুরাগের কেরিয়ারেও ‘মুক্কাবাজ’ একটি ব্যতিক্রম হয়ে থাকল। সূত্র: এবেলা
No comments