প্রেসকার্ড নিউজ, ক্যানিং, ২৮ ডিসেম্বর: কলকাতা, দুর্গাপুরের পর এবার অঙ্গদানের নজির ঘটল সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার ক্যানিংয়ে। শুক্রবার দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসারত এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। গুরুদাস দেবনাথ নামে বছর ছাপ্পানর ঐ ব্যক্তির মৃত্যুর পর পরিবারের লোকেরা গুরুদাসবাবুর চক্ষুদানের সিদ্ধান্ত নেন। সেই মত কলকাতার শঙ্কর নেত্রালয়কে খবর দেওয়া হলে চিকিৎসকরা এসে গুরুদাসবাবুর চক্ষু দুটি সযত্নে নিয়ে যান তাদের আই ব্যাঙ্কে।
ক্যানিং মহকুমা হাসপাতাল সুত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন ক্যানিংয়ের দিঘীরপাড় গ্রাম পঞ্চায়েতের রোটারী ক্লাব সংলগ্ন নাথপাড়ার বাসিন্দা বছর ছাপ্পানের গুরুদাস দেবনাথ।গুরুদাসবাবুর অবস্থা আশাঙ্কাজনক হওয়ায় ঐদিন রাতেই তাঁকে সিসিইউতে স্থানান্তরিত করেন ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসকরা। এরপর শুক্রবার সকাল দশ’টা নাগাদ গুরুদাসবাবুর মৃত্যু হয়।
বাবার মৃত্যুতে ভেঙে না পড়ে তাঁর বড় ছেলে গৌরব দেবনাথ ও ছোট ছেলে গৈরিক দেবনাথ পরিবারের অন্যান্য সদস্যের সাথে আলোচনা করে মুহুর্তেই সিদ্ধান্ত নেন তাঁদের বাবা যাতে অন্যের মাধ্যমে বেঁচে থাকেন সেই মতো গুরুদাসবাবুর দু'টি চক্ষুদান করার কথা ক্যানিং মহকুমা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানান। মৃতের পরিবারের এই ইচ্ছা জানতে পেরে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মুহূর্তেই শঙ্কর নেত্রালয়কে বিষয়টি জানালে শঙ্কর নেত্রালয়ের চিকিৎসকরা তড়িঘড়ি ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে হাসপাতালে এসে গুরুদাসবাবুর চোখ দুটি সংরক্ষিত করে নিয়ে যান। ক্যানিং সহ সুন্দরবন এলাকায় এমন নজিরবিহীন ঘটনায় আগামী দিনে অন্যান্য সাধারণ মানুষজন আরও অঙ্গদানে এগিয়ে আসবেন বলেই দাবি ক্যানিং মহকুমা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। এ বিষয়ে মৃতের ছোট ছেলে গৈরিক দেবনাথ বলেন, “ আমরা চাই আমাদের বাবা অন্যদের মধ্যে বেঁচে থাকুন। আর এইভাবে অন্যন্যরাও এই অঙ্গদানে এগিয়ে আসবেন।"

No comments