খোলামেলা পোশাকে ফটোশ্যুট করে ইতিমধ্যেই ঢালিউডে জায়গা করে নিয়েছেন এ সময়ের আলোচিত বাংলাদেশের নতুন মডেল রেশমী অ্যালন। তিনি খোলামেলা পোশাকে অসংখ্যবার ক্যামেরাবন্দি হয়েছেন। শুধু খোলামেলা পোশাকেই নয় সব পোশাকেই তাকে সুন্দর লাগে। সব পোশাকেই তার শারীরিক সৌন্দর্য ফুটে ওঠে।
এমনটিই জানিয়ে রেশমি এ্যালোন বলেন, তার শারীরিক গঠনের সাথে সব পোষাকই সুন্দর দেখায়। এসব ছবি বলিউডে জায়গা করে নিতে অনেকটাই সাহায্য করবে। রেশমি এ্যালোন তার ফটোশ্যুটের ছবিগুলো সবসময় আপলোড করছেন ফেসবুকে। রেশমীর ক্যামেরার সামনে খোলামেলা পোশাকে দাঁড়ানোর কাছে অন্য কোনো অভিনেত্রী বা মডেল জায়গা করতে পারছেন না।
তার এসব ফটোশ্যুটের জন্য ঢালিউডে চলছে আলোচনার ঝড়। অতি শিঘ্রই বলিউডে তার নাম উঠে আসবে বলে বিনোদন প্রেমিদের আশা। রেশমী সব কিছুকে পিছনে ফেলে এগিয়ে চলেছেন সামনের দিকে। খোলামেলা ফটোশ্যুট এবং অভিনয় স¤পর্কে রেশমী অ্যালন বলেন, যেকোনো কাজে আলোচনা-সমালোচনা থাকবেই।
আমাকে নিয়ে যতোই আলোচনা-সমালোচনা হোক না কেন আমি আমার কাজ চালিয়ে যাব। পরিচালকরা যেভাবে চাইবেন সেভাবেই নিজেকে তুলে ধরব সবার কাছে। তিনি আরো বলেন, আমি আশা করি আমার খোলামেলা ফটোশ্যুট এবং অভিনয়ের পথ ধরে বাংলাদেশের আরো অনেক অভিনেত্রী ও মডেল বলিউডে জায়গা করে নিবে। খোলামেলা হওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরে রেশমী বলেন, আমাদের দেশে ভারতীয় সিনেমার দর্শকদের চাহিদা আকাশচুম্বী।
বিশেষ করে বলিউডে পর্ণ তারকাদের ভিড়ের কারণে দর্শকদের চাহিদা বহুমূখী হয়েছে। আমি দর্শকদের আমার দেশের সিনেমা মুখী করার চেষ্টা অবশ্যই করবো। চরিত্রের প্রয়োজনে আমাকে যতোটা খোলামেলা হতে হয়, আমি তাই হবো। তিনি বলেন, আমার উপলব্ধি হয়তো সবাইকে আশাহত করতে পারে, কিন্তু এর মধ্যে আমিও আশাবাদী একদিন আমাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি ঘুরে দাড়াবে। বিশ্ব দরবারে আমরাও একদিন জায়গা করে নিব। বিশ্বের অনেক দেশে অভিনয়ের খাতিরে অভিনেত্রীরা শিল্পমান বজায় রেখে খোলামেলা পোশাকে অভিনয় করছেন, বাংলাদেশে হচ্ছেনা কেন? তার কারন, এখনও আমরা পুরনো ধারনা নিয়ে পড়ে আছি যার কারন অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে চলচিত্র অঙ্গনকে।
আর্কর্ষনীয় মডেল রেশমী এ্যালোন সিনেমায় শরীর দেখানোকে একটা আর্ট মনে করে বলেন, যার যে দৃষ্টি সে ঠিক ঐভাবে দেখবে। ভাল দৃষ্টিতে দেখলে ভাল লাগবে। আর খারাপ দৃষ্টিতে দেখলে খারাপ লাগবে। খারাপকে পরাজিত দেখতে ভালো লাগে, সুন্দরকে ভালবাসতে, ভালোকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে জয়লাভ করতে দেখতে সবার ভালো লাগে। সত্যি বা কাল্পনিক যে ঘটনাই হোক না কেন, সবার মনের গভীরে দাগ কেটে যায়। সিনেমাকে ভালবাসতে চাইলে, সিনেমাকে বিশ্বাস করতে হয়।
সিনেমার মানুষগুলোকে আপন করতে হবে। সিনেমাকে ভালবাসার একটি সত্য উদারহন আমাদের পাশের দেশে আছে। ভারতে অনেক জাতির, অনেক ভাষার বিভাজন থাকলেও জাতীয় ভাষা হিসেবে হিন্দিকে শক্তিশালীভাবে প্রতিনিধিত্ব করছে ভারতের চলচ্চিত্র শিল্প। ফলে ভারতীয় সংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়ছে সারা পৃথিবীতে। সেই দেশে জাতীয়তাবাদী চিন্তার পক্ষে-বিপক্ষে অনেক মতামত থাকতে পারে। কিন্তু তাদের চলচ্চিত্র সফল ভাবে এগিয়ে চলেছে। তিনি ভারতের সাথে তুলনা করে বলেন, অনেক প্রতিভা আছে আমার দেশে আমরা চাইলেই ঘুরে দাড়াতে পারবো। তার একটাই লক্ষ্য দেশীয় চলচিত্রের মাধ্যমে নিজের দেশকে বিশ্ব দরবারে উপস্থাপন করা।
উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালের ২ জানুয়ারী রেশমী নরসিংদীতে জন্ম গ্রহন করেন। বাবা, হানিফ খান একজন ব্যবসায়ী। মা, মাফিয়া বেগম গ্রহিনী। তিনবোনের মধ্যে রেশমী বড়। গাজীপুর থেকে তিনি এইচএসসি পাশ করেছেন। বাবার ব্যবসার সুবাদে ঢাকাতেই বসবাস। নায়িকা শাবনুর, নায়ক রিয়াজ ও ফেরদৈাস রেশমরি পছন্দ। রেশমীর শখ ষ্টিল ফটোগ্রাফি এবং তিনি সময় পেলেই ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। সিনেমায় আসার পিছনে রয়েছে মা-বাবার ভুমিকা।
রেশমীর মা-বাবার একটাই উদ্দেশ্য মেয়ে যেনো সিনেমায় ভাল একটা অবস্থান তৈরী করতে পারে। পাশাপাশি বাংলাদেশের সিনেমা জগতকেও তাদের মেয়ের অভিনয়ের মাধ্যমে যেন সারা বিশ্ব চিনে সে কামনাও করেন।

No comments