প্রেসকার্ড, দুর্গাপুর,২৭ ডিসেম্বরঃ-- কয়েকদিন আগেই জেলাসফরে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী আদিবাসী এলাকায় উন্নয়নের কথা শুনিয়েছেন। তার মধ্যে চরম বঞ্চনার ক্ষোভ ছড়াল কাঁকসার জঙ্গলমহল আদিবাসী এলাকায়। আর ওই বঞ্চনার অভিযোগে বৃহঃস্পতিবার কাঁকসা বিডিও অফিস ঘেরাও করল আদিবাসীরা। ঘটনাকে কেন্দ্র বিস্তর জল্পনা ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহল।
গত নভেম্বর মাসে দুর্গাপুরে মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক বৈঠক করেন। তাতে জঙ্গলমহলে আদিবাসী এলাকায় বিশেষ শিবির করে তাদের অভাব-অভিযোগ সমাধানের নির্দেশ দেন। সেই মতো 'প্রশাসন আপনার দরজায়' নামে বিভিন্ন ব্লকে শিবিরও শুরু করেছে জেলা পুলিশ ও প্রশাসন। খেলাধুলার পাশাপাশি শীতবস্ত্র বিতরনও করা হচ্ছে। এদিকে তখন কাঁকসার বিস্তীর্ন জঙ্গলমহলে চরম বঞ্চনার ক্ষোভে ফেটে পড়ল আদিবাসীরা। বৃহঃস্পতিবার দুপুরে কাঁকসা বিডিও অফিস ঘেরাও করে অবস্থান বিক্ষোভ বসে পড়ে আদিবাসীরা। এদিন কাঁকসা সাহেবপাড়া থেকে হাজার দেড়েক আদিবাসী সম্প্রদায় তাদের ঐতিহ্য মত তীর ধনুক নিয়ে মিছিল করে। তারপর বিডিও অফিসের গেটের সামনে ঘেরাও করে রাখে। তারপর বিডিওর নিকট ২১ দফা দাবীতে ডেপুটেশন দেয়।আদিবাসী গাঁওতা সংগঠনের সভাপতি সুনীল সোরেন জানান," রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। কাঁকসা সহ গোটা রাজ্যে আদিবাসীরা বঞ্চনা ও লাঞ্ছনার শিকার। আদিবাসীদের জমি পাট্টা দেওয়া তো দুর অস্ত। জোরপুর্বক জমি দখল করে নেওয়া হচ্ছে। আদিবাসী মহিলাদের বিভিন্ন জায়গা ধর্ষনের শিকার। কোন সুবিচার জুটছে না। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা থেকে এক'শ দিনের কাজ থেকে বঞ্চনা করা হচ্ছে। কাঁকসার সাহেবপাড়ায় দু-বছর ধরে এক'শ দিনের কাজের টাকা বকেয়া। ডাঙ্গালে একলব্য আদিবাসী স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। অসহায় প্রতিভাবান খেলওয়াড়দের কোন সাহায্য করা হচ্ছে না। আমরা ফিরিস্তি শুনে ক্লান্ত। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। তাই আন্দোলনের রাস্তায় নেমেছে। ২১ দফা দাবী জানিয়েছি কাঁকসা ব্লক প্রশাসনকে। দাবী পুরন না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামব।" অন্যদিকে কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নিখিল ডোম জানান," কাঁকসার জঙ্গলমহলে যথেষ্ট উন্নয়ন করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মতো তাদের সঙ্গে জনসম্পর্ক করে সমস্যা, অভাব অভিযোগ সমাধান করা হচ্ছে। ডেপুটেশনের দাবী খতিয়ে দেখা হচ্ছে।" বিকাল নাগাদ প্রশাসনিক আশ্বাস পেয়ে অবস্থান বিক্ষোভ তুলে নেয় আদিবাসীরা।

No comments