প্রেসকার্ড,দুর্গাপুর, ২১ ডিসেম্বরঃ-- দলীয় কর্মী খুনে বিজেপির ডিসিপি অফিস ঘেরাও অভিযানে ধুন্ধুমার কান্ড বাঁধল। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশের মৃদু লাঠিচার্জ। শুক্রবার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুমুল উত্তেজনা ছড়াল দুর্গাপুর ডিসিপি অফিস চত্বর। ঘটনায় রাজনৈতিক কারন নেই বলে দাবী পুলিশের। পাশাপাশি দোষীদের গ্রেফতারের দাবীতে বাংলা অচলের হুঁশিয়ারী দিয়েছে বিজেপির।
উল্লেখ্য, গত ৯ ডিসেম্বর রাত্রে কাঁকসায় মিটিং সেরে ফেরার পথে সন্দীপ ঘোষ নামে এক বিজেপিকর্মী খুন হয়। ঘটনায় অভিযোগের আঙ্গুল ওঠে তৃণমূল আশ্রিত দুস্কৃতিদের দিকে। অভিযুক্তদের মধ্যে তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য শেখ সাইফুলকে গ্রেফতারের দাবীতে আন্দোলনে নামে বিজেপি। যদিও পুলিশ ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। শুক্রবার ছিল বিজেপির আসানসোল-দুর্গাপুর ডিসি(পুর্ব) অফিস ঘেরাও। এদিন দুপুর সাড়ে ১২ টা নাগাদ ডিএসপি গেষ্ট হাউস মোড়ে বিজেপিকর্মীরা জমায়েত হয়ে মিছিল করে। এবং ডিসিপি অফিস ঘেরাও করে। যদিও ডিসিপি অফিসে এদিন ব্যারিকেডের পাশাপাশি বিশাল পুলিশবাহিনী, র্যাপ ও কমব্যাট ফোর্স মোতায়ন ছিল। এছাড়াও ছিল জলকসমানের ব্যাবস্থা ছিল। বিজেপিকর্মীদের মিছিল ডিসিপি অফিসের ভেতরে জোরপুর্বক ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। শুরু হয় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি। বিজেপিকর্মীরা ব্যারিকেড তুলে ফেলে দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ মৃদু লাঠিচার্জ করে। পাল্টা বিজেপিকর্মীরা লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ। আর তাতেই ধুন্ধুমার কান্ড বেঁধে যায়। উত্তেজিত বিজেপিকর্মীরা ডিসির অফিসের সামনের রাস্তা অবরোধ করে। ফলে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনায় বিজেপির রাজ্য নেতা রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় সহ বেশ কয়েকজন স্বল্প বিস্তর আহত হয়। প্রায় ঘন্টা দেড়েক পর বিজেপিকর্মীদের একটি দল অভিযুক্ত শেখ সাইফুলসহ বাকিদের গ্রেফতারের দাবীতে ডিসিপির কাছে স্মারকলিপি জমা দেয়। এদিন বিজেপিনেতা রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় জানান," রাজ্যে স্বৈরাচারী শাসন চলছে। তাই সাইফুলের মতো অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাদের ধরতে পুলিশ চোখে সর্ষে ফুল দেখছে।" তিনি আরও জানান," পুলিশের ওপর আস্থা নেই। তাই সিবিআই তদন্তের দাবী জানিয়েছি। সাইফুল গ্রেফতার না হলে প্রয়োজনে পশ্চিমবঙ্গকে অচল করে দেওয়া হবে।" অন্যদিকে ডিসি(পুর্ব) অভিষেক মোদী জানান," ঘটনায় রাজনৈতিক খুনের কারন নেই। পুরোনো শত্রুতার জেরে খুন। ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতরা স্বীকার করেছে। রিমান্ডে দুটি প্রমান পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে একটি মোটরবাইক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।"
যদিও পাল্টা বিজেপির পশ্চিম বর্ধমান জেলা সভাপতি লক্ষন ঘড়ুই দাবী করেন," সন্দীপ ওই এলাকায় কয়লা, বালি ও গরু পাচারের প্রতিবাদ করে আন্দোলন সংগঠিত করছিল। তাই তাকে তৃণমূল পরিকল্পিতভাবে খুন করেছে।" তৃণমূলের পশ্চিম বর্ধমান জেলা কার্যকরী সভাপতি উত্তম মুখোপাধ্যায় অবশ্য অভিযোগ অস্বিকার করে জানান," বিজেপির রাজ্যে কোন সংগঠন নেই। শুধু এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করছে।"

No comments