প্রেসকার্ড,বীরভূম:ভোরে গৌরাঙ্গ প্রাঙ্গনে বৈতালিক ও সকালে ছাতিমতলায় উপাসনার মধ্য দিয়ে শুরু হল ঐতিহ্যবাহী পৌষমেলা ২০১৭। হালকা কুয়াশার মধ্যে শীতের সকালের মিষ্টি রোদের আমেজকে গায়ে মেখে শুরু হল ১২৪ তম পৌষমেলা এবার। সমস্ত রীতি মেনে এই মেলা শুভ সূচনা। এবারও মেলা যেহেতু গতবারের মত তিনদিনের পরিবর্তে ছ’দিনের, তাই এবারের মেলাও অন্য মাত্রাও বহন করছে। তবুও কোথাও যেন আছে বিষাদের সুরও বাজছে, চিরাচরিত প্রথার আতসবাজির বর্ণময় ছটায় আলোকিত হবে না এবার মেলার মাঠ। পরিবেশ বাঁচাতে এমন সিদ্ধান্ত। তবে মেলায় তিনদিনের বদলে ছয় দিনের হওয়ায় মেলার ডাবল মজার দিকে তাকিয়েই আশ্রমিকরা, দেশ-দেশান্তর থেকে আসা প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীরা, যাঁরা বছরের এই কটা দিনের দিকে তাকিয়ে থাকেন এই মিলনভূমে আসার জন্য। পৌষমেলায় ভিড় করা দুর-দুরান্ত থেকে আসা মানুষজনদেরও এবার মজার শেষ নেই, কারন মেলা যে এবার ছ’দিনের।
লাল মাটির দেশ বীরভূমে ক্যালেন্ডারের পাতা ধরে ৭ ই পৌষ বসে পৌষ মেলা। দীর্ঘ আইনি জটিলতার পর গত বছর থেকে গায়ে রোদ মেখে শান্তিনিকেতনের পৌষ মেলা বসছে ৬ দিনের জন্য। দূষণের দিকে নজর রেখে গত বছর থেকেই বন্ধ করা হয়েছে পৌষ মেলায় বাজি পোড়ানো। সেই নির্দেশই এবছরও বহাল থাকছে বলে জানা গিয়েছে। তবে মেলার হাতছানি উপেক্ষা করার মত বাঙালি খুঁজে পাওয়া মুশকিল। শুধু বাঙালিরাই কেন! বাইরে থেকেও অজস্র মানুষের সমাগম হয় এই পৌষ মেলায়। রীতি মেনে ছাতিম তলায় বৈদিক মন্ত্র ও রবীন্দ্র সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে প্রতিবারের মত এবারও সকাল সাতটায় মেলার শুভারম্ভ হয়েগেল।
মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ৭ ই পৌষ ১২৫০ বঙ্গাব্দে ব্রাহ্ম ধর্মে দীক্ষিত হয়েছিলেন, এই দিনেই পৌষ মেলার মূল ভিত্তি। ১৮৯১ সালের ২১ ডিসেম্বর অর্থাৎ ১২৯৮ বঙ্গাব্দের ৭ পৌষ শান্তিনিকেতনে ব্রাহ্মমন্দির স্থাপিত হয়। ১৮৯৪ সালে ব্রাহ্মমন্দিরের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী স্মরণে মন্দিরের উল্টোদিকের মাঠে একটি ছোটো মেলা আয়োজন করা হয়েছিল।আর সেদিনের গ্রাম্য অনাড়ম্বর মেলা কালের নিয়মে আজ শহুরে বাণিজ্যিক মেলায় পরিণত। দীর্ঘ ১২৩ বছর ধরে একই নিয়মে মেলা হয়ে আসছে বীরভূমে শান্তিনিকেতনে। রীতিনীতির অপরিবর্তিত থাকলেও আইনি জটিলতায় মাঝে বেশ কয়েক বার মেলার দিনক্ষণ কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষকে। এবারও ওই ঐতিহ্য মেনে শান্তিনিকেতনের ভুবন ডাঙার মাঠে ১২৪ তম পৌষ মেলার শুভারম্ভ হয়ে গেল আজ থেকে।
No comments