বিয়ের একমাসের মধ্যেই নববধূকে গায়ে কেরোসিন ঢেলে খুনের চেষ্টার অভিযোগ উঠলো শ্বশুর, শ্বাশুড়ি, ভাসুর জায়ের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ালো উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ থানার অভোর গ্রামে।নির্যাতিতা নববধূ কনিকা দাস নিজেই রায়গঞ্জ মহিলা থানায় স্বামী সমীর দাসসহ শ্বশুর শাশিড়ি, ভাসুর ও জায়ের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার পর থেকেই পলাতক নববধূর শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। নববধূর স্বামী সমীর দাস কলকাতায় রয়েছেন।
পরিবারসূত্রে জানা গিয়েছে, রায়গঞ্জ থানার অভোর গ্রামের বাসিন্দা সমীর দাসের সাথে পাশের গ্রামের বাসিন্দা কলিকা দাসের ৮ বছর ধরে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সমীর দাস কলকাতা পুলিশে কর্মরত। স বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সমীর কনিকার সাথে সহবাস করে বলে অভিযোগ। এদিকে গ্রামের বাদিন্দারা তাদের মেলামেশা ও ঘনিষ্ঠতা দেখে গত ২৫ নভেম্বর তাদের বিয়ে দিয়ে দেয়। বিয়ের পরেই গ্রামবাসী তাদের বিয়েটিকে রেজেষ্ট্রি করার জন্য বলতেই সমীর রায়গঞ্জ থেকে কলকাতায় চলে যায়। এরপর নববধূ কনিকা স্বামী সমীরকে ফোন করলে সমীর কনিকার কাছে বিয়ের পণ হিসেবে ২০ লক্ষ টাকা দাবী করে। পণ হিসেবে ৫ লক্ষ টাকা দেওয়াও হয় সমীরকে। পাঁচলক্ষ টাকা নেওয়ার পর সমীরের সাথে কনিকার আর কথা ও দেখাও হয়নি। গতকাল কনিকা শ্বশুরবাড়িতে এলে সমীরের পরিবারের সদস্যরা তাকে মারধরের পাশাপাশি কনিকাকে গালাগালি করে তাকে পুড়িয়ে মারতে শরীরে কেরসিনের তেল ঢেলে দেয় বলে অভিযোগ। কোনওভাবে কনিকা সেখান থেকে পালিয়ে গিয়ে রায়গঞ্জ মহিলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন স্বামী সমীর সহ তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। কনিকাকে মারধর করায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পরে সে। তাকে রায়গঞ্জ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে কনিকার।

No comments