Page Nav

HIDE

Grid Style

GRID_STYLE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

Recent

মহেন্দ্র সিং ধোনির মা কেমন আছেন?

রাচির স্কুলের ক্রিকেটার থেকে খড়গপুর রেল স্টেশনের টিকিট কালেক্টর, তারপরে আবার পূর্ণসময় ক্রিকেট সাধনায় নিজেকে নিয়োজিত করে ভারতীয় দলের ক্রিকেটার থেকে বিশ্বজয়ী ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হয়ে উঠা। মহেন্দ্র সিং ধোনী-র ক্রিকেট জীবনের …





রাচির স্কুলের ক্রিকেটার থেকে খড়গপুর রেল স্টেশনের টিকিট কালেক্টর, তারপরে আবার পূর্ণসময় ক্রিকেট সাধনায় নিজেকে নিয়োজিত করে ভারতীয় দলের ক্রিকেটার থেকে বিশ্বজয়ী ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হয়ে উঠা। মহেন্দ্র সিং ধোনী-র ক্রিকেট জীবনের এই উত্থান সহ ধোনীর ব্যক্তিগত প্রেম কাহিনী ইতিমধ্যেই বলিউডের দৌলতে ভারত তথা বিশ্ববাসীর জানা। কিন্তু দীর্ঘ ৩৭ বছরের জীবনকে ২ ঘন্টা ৪১ মিনিটে তুলে ধরা হয়ত সম্ভব নয়, তাই বলিউডের ধোনী সিনেমার ন্যায় ধোনী-র জীবনের স্মৃতি থেকেই হয়ত বাদ পড়ে গিয়েছে একদা ধোনী যাকে মা বলে ডাকতেন সেই কলাবতী নামক বৃদ্ধাও। এ কোন সেলুলয়েডের চিত্রনাট্য নয়, বাস্তব জীবনের সঙ্গে সংঘর্ষে নিজের ছেলে হিসাবে মানা ধোনী-র জীবন সংঘর্ষে সহ লড়াই লড়া মা কলাবতী-র বাস্তব জীবনের খন্ডচিত্র। ধোনী যখন রেলের টিকিট কালেক্টরের কালো কোর্ট পড়ে খড়গপুর স্টেশনের ৮নং প্লাটফর্মে ছুটোছুটি করে যাত্রীদের টিকিট পরীক্ষা করে খড়গপুরের রেলকলোনীর খাটিয়ায় ক্লান্ত হয়ে খানিকটা জিরিয়ে নিতেন সেই সময় কলাবতী নামের এই ষষ্ঠতিপর বৃদ্ধা ধোনীর হাতে তুলে দিতেন গরম দুধের গ্লাস। মেজে দিতেন ধনীর এঠো বাসনও। ধোনী মা বলে ডাকতেন কলাবতীকে, অপরদিকে তেমনি কলাবতীও ধোনীকে টেনে নিয়েছিলেন নিজ মাতৃছায়ায়। এরপর ৪-৫ বছরের রোজনামচা অতিক্রান্ত হওয়ার পর মহেন্দ্র সিংহ ধোনী সূযোগ পেয়ে যায় ভারতীয় ক্রিকেট দলে। এবং ক্রমান্বয়ে তারপর ভারতের ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হিসাবে মহেন্দ্র সিং ধোনী-র হাতে উঠে ২০০৭ সালে টি-২০ এবং ২০১১ সালের বিশ্বকাপ।
এরপর অনেক সময় অতিবাহিত হলেও ছেলে মহেন্দ্র সিংহ ধোনী-র কথা ভুলতে পারেনি বৃদ্ধা কলাবতী। বয়সের ভারে জরাজীর্ণ ধুকতে থাকা কলাবতীর চোখ তাই আজও দেখতে চায় তার ছেলে মহেন্দ্র সিংহ ধোনীকে। কলাবতী জানান খড়গপুরের রেলকলোনীতে ধোনীর ঘরের চাবি থাকত তার কাছেই। এদিন তিনি ছেলের অপেক্ষায় অধীর অপেক্ষারত কন্ঠে বলেন একবার আসুক তো দেখি, বিয়ে হয়ে গেছে অনেকদিন দেখিনি। এমনকি ক্রিকেট মাঠের ধকল এড়ানোর জন্য কলাবতী যখন স্নেহময়ী শাসন ভঙ্গিমায় ধোনীকে বলতেন এত খেলা কেন রে-কলাবতীর উত্তরে ধোনী বলতেন যদি থেমে যাই তাহলে কি করে খাব। কলাবতীর তার নিজ স্মৃতি রোমন্থনে এদিন সবকিছুই যেন হয়ে উঠল বর্তমান সময়ের খন্ডচিত্র। এদিন খড়গপুরের রেল কলোনীর বাসিন্দারা তথা কলাবতীর প্রতিবেশীরাও জানান ধোনী এবং কলাবতীর মধ্যে গড়ে উঠা মমতাময়ী সম্পর্কের কথা। প্রতিবেশীদের মুখেই এদিন জানা গেল কলাবতীর বর্তমান দুরাবস্থার কথা। জানা গেছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অভাবে বেশ কিছুদিন ধরে বন্ধ হয়ে রয়েছে কলাবতীর বৃদ্ধ ভাতা। ফলে রেল কলোনীর বাসিন্দাদের দেওয়া খাবারই বর্তমানে কলাবতীর অন্নসংস্থানের একমাত্র মাধ্যমে পরিনত হয়েছে। তবুও সবরকম আর্থিক প্রতিবন্ধকতাকে যেন সহাস্যে বরন করেও আজও কলাবতীর দুচোখ শুধুমাত্র তার ছেলে মহেন্দ্র সিং ধোনীকে দেখবার অপেক্ষায় অপেক্ষারত।

No comments