একটু ভাবুন
আমরা আমাদের হাত পা বা দেহের যে কোনো অংশ ইচ্ছামত নাড়াচাড়া করাতে পারি কিন্তু দেহের ঐ বিশেষ অঙ্গটার ওপর আমাদের সে ধরনের নিয়ন্ত্রণ নেই। সামনে কোনো শিহরণ উদ্দীপক দেখলে তাতে সে সাড়া দিতেও পারে, নাও দিতে পারে। আদম যখন বেহ…

একটু ভাবুন
আমরা আমাদের হাত পা বা দেহের যে কোনো অংশ ইচ্ছামত নাড়াচাড়া করাতে পারি কিন্তু দেহের ঐ বিশেষ অঙ্গটার ওপর আমাদের সে ধরনের নিয়ন্ত্রণ নেই। সামনে কোনো শিহরণ উদ্দীপক দেখলে তাতে সে সাড়া দিতেও পারে, নাও দিতে পারে। আদম যখন বেহেস্তে ছিলেন তখন নাকি এ ধরনের নিয়ন্ত্রণ ছিল। বেহেস্তের সে নিষিদ্ধ ফল সেবন এ নিয়ন্ত্রণের মৃত্যু ঘটায়। এতে তাদের স্বর্গীয় বেশভূষা খসে পড়ে যায়। মহান প্রভু এ আদেশ লংঘনের কারণে তখন তাদের এ দুনিয়াতে পাঠিয়ে দেন। সে অবধি মানুষের এ পার্থিক জীবন। সেন্ট অগাস্টিন গ্রন্থ ‘দি সিটি অব দি জয়’ গ্রন্থে এমনি এক অদ্ভুত তথ্যের অবতারণা করেছেন।

এ সম্পর্কে আধুনিক বিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গি কি? আমরা আমাদের দেহের সমস্ত অংশকে যতটা স্বাচ্ছন্দ্যতার সাথে নিয়ন্ত্রণ করে থাকি পুরুষাঙ্গের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই কেনো? নিজের খেয়াল খুশী মত মাথা তুলে তার দৃঢ় প্রত্যয় ঘোষণা করে, আমরা ইচ্ছা শক্তি দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে এটিকে উত্থিত বা শিথিল কোনোটাই করতে পারি না। আসলে শারীরবৃত্তিক এ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে আমাদের স্নায়ুতন্ত্রের বিশেষ কারসাজি। সবগুলো আমাদের স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা, তবে স্নায়ুতন্ত্রের দুটো পৃথক বিভাগ এদের নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। আমরা যে হাত পা বা অঙ্গ সঞ্চালন করে থাকি তা সোমাটিক স্নায়ুতন্ত্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এটি সম্পূর্ণভাবে আমাদের কৃতত্বাধীন। পুরুষাঙ্গের উদ্রিক্ততা বা শিথিলতা যে স্নায়ু নিয়ন্ত্রণ করে থাকে তার নাম অটোনমিক স্নায়ুতন্ত্র। অটোনমিক মানে অটোমেটিক বা অটোনোমাস। দৈহিক শারীরবৃত্তি একটা স্বনিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়ায় এটি করে থাকে। চেতন মন নয় ।
No comments