সেক্স-অবজেক্ট হিসাবে ভেবে ফেলছি
ধরুন আপনি মা হয়েছেন। আপনার চেহারা তো একটু খারাপ হবেই। মোটা হবেন বেশ ভালোই। কিন্তু, আপনার পার্টনার তো এতদিন আপনাকে স্লিম-ট্রিম অ্যান্ড সেক্সি দেখে এসেছেন। তার এখন আপনাকে আর ভালো লাগছে না তাই। অ্যাট্রাক্ট্রিভ তো হতেই হবে। কিন্তু, সেটাই তো সব নয় সম্পর্কের জন্য। সম্পর্কের ভিত্তি যে ভালোবাসা তার জন্য ফিজিকের থেকেও ভালো মনটা তো বেশি জরুরী। তাহলে কি আমরা এখন একে অন্যকে ‘সেক্স অবজেক্ট’ হিসাবে ভেবে ফেলেছি? সবটা তা নয়, কিন্তু, খানিকটা তাই। এই যে সামনে পুজো আসছে, রাস্তায় বেরিয়ে তো ছেলেরা মেয়ে ছকবে, আর মেয়েরা ছেলে। তা এই ছকাছকির মধ্যে কোনটা বেশি- শরীরটাই তো। সাধে কি আর পুজোয় মাছ তোলার প্রসঙ্গ আসে বলুন!
রিল-লাইফের প্রভাবও আছে বৈকি!
‘রাবতা’ সিনেমার আইটেম সঙটা দেখেছেন তো? জানি, সিনেমাটা না দেখলেও ওটা দেখতে মিস করেননি, দীপিকা নেচেছে যে ওই আইটেম সঙ-এ। এমনিতে তো প্রেমের কাহিনী, কিন্তু, তাও দিতে হল একটা আইটেম সঙ গুঁজে। রামলীলা ধরুন, দিব্যি প্রেমের মাখোমাখো সিনেমা, ড্রামা, অ্যাকশন সবই আছে। এক কথায় অসাধারণ। কিন্তু, সেখানেও মাঝখান থেকে প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে দিয়ে একটা আইটেম সঙ নাচিয়ে নেওয়া হল। সানি লিওনের কথা আলাদা ভাবে নাই বা আনলাম আর। এই সবই পাবলিক ভালো খাবে তাই। এবার পাবলিক খাবে, না পাবলিককে খাওয়ানো হবে ইচ্ছে করে সেটা ভাবার বিষয়। কিন্তু, আপনাদের কি মনে হয় না বন্ধুরা, যে সিনেমায় অতিরিক্ত ‘সেক্স সিন’ ঢুকিয়ে মাঝে মাঝে লাভ স্টোরিকে আরও মুচমুচে করা হচ্ছে যার দরকার ছিল না। এর একটা প্রভাব তো পরেই, সে আপনারা একমত নাও হতে পারেন।
লিভ-ইন নিয়ে একটু ভাবুন

লিভ-ইন বিষয়টা মার্কেটে এখন বেশ উঠেছে। ভালো করে ভাবলে দেখব লিভ-ইন এই শরীরকে কাছে পাবার জন্যই শুধু। আপনারাই বলুন না, দু’জন পরষ্পরকে ভালোবাসলে শরীর তো কাছাকাছি আসবেই। হাল্কা চুমু-টুমু ঠিক আছে, সে তো এমনিও হতে পারে, মোরহরকুঞ্জ কি করতে আছে! কিন্তু, আরো নিবিড়ভাবে শরীরকে পাবার জন্যই লিভ-ইনটা করা। অনেকে বলবেন প্রাইভেসি এতে ভালো বজায় থাকে। কিন্তু, আগেকার দিনেও সবার ঘটক দিয়ে বিয়ে হত না। অনেকে প্রেম করতেন। তাদের বিয়ে করে প্রাইভেসি বজায় রাখতে কোনো সমস্যা হত না। তাহলে এখন কেন? কারন একটা সম্পর্কে আসার সঙ্গে সঙ্গেই এখন আমাদের শরীরের চাহিদাটা বেড়ে যায়। স্যাটিশফেক্সন হলে টিকে গেলাম, নয়তো ঝামেলা ছাড়াই বেরিয়ে আসা গেল, যা বিয়েতে সম্ভব না। কিন্তু, এই প্রাইভেসি একদমই নষ্ট হয় না কিছু ঘনিষ্ঠ ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করলে।
অর্থই অনর্থের মূল হচ্ছে না তো?

‘এনজয়’ শব্দটা এখন বেশ ভালো চলছে। আমাদের চারদিকে এত ঝা-চকচকে সব জিনিস, এত পণ্যের ছড়াছড়ি যে যা চাই তা কিনতে পারি, কারণ হাতে টাকা আছে। টাকা আমাদের এমন এক স্বাধীনতা দিয়েছে যা আমাদের অনেকসময় কিছু মূল্যবোধকে ভেঙ্গে দিচ্ছে। শরীরটা আমার, এটা ব্যবহার করে মজা পেলেই হল! তাতে প্রেম থাকলে ভালো, না থাকলেও খুব ক্ষতি নেই, মজাটা তো পাচ্ছি- এই মানসিকতার দিকেই আমরা এগোচ্ছি। এতে একটা বেশ থ্রিল-ও আছে। লাভ-স্টোরি আজ তাই প্যানপ্যানে। আমরা বাঙ্গালীরা সাহিত্য-টাহিত্য বেশি কপচাই। তা একটু সমরেশ বসু’র ‘বিবর’ টা উল্টে-পাল্টে দেখতে পারেন। শরীর আর প্রেমের তফাৎটা বোঝা যাবে।
তাহলে বন্ধুরা, কি বলেন! নিশ্চই শুধু শরীর শরীর করেন না আপনারা? শুনুন, পার্টনারের সঙ্গে থাকুন, সময় দিন, মন বোঝার চেষ্টা করুন। তাহলেই শরীরের উষ্ণতা এই পেলেন বলে!

No comments